বিডি শেয়ার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে স্ক্রিপ নিটিং ও টি+১ চালুসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ দুটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে ডিএসই। একইসঙ্গে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে, যা ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসই এমডি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন পণ্য ও ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ প্রসঙ্গে ডিএসইর এমডি বলেন, আমরা স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ বিষয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি। এক্ষেত্রে বিএসইসির যথেষ্ট সহযোগিতা এবং ভালো গাইডলাইন পাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করবো ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ দুটি চালু করার জন্য।
আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু গাইডলাইন পাওয়া গেছে। তবে, ডেরিভেটিভস চালুর আগে বাজারে সচেতনতা ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সিস্টেম আপডেট করতে হবে।
তিনি বলেন, এগুলো করার পর হয়তো ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আমরা ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। শিল্প খাতের শ্রেণিবিন্যাস ও ক্যাটাগরাইজেশন নিয়েও কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ বিষয়ে ডিএসই বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে তা শেয়ার করা হবে এবং কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে। নতুন কোনো নিয়ম বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে বাজারের স্বাভাবিক গতি যেন ব্যাহত না হয় এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই কাজ করছে ডিএসই।
ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান ডিএসইর এমডি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনকে আরও সহজ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএসইসির বর্তমান নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা একটি মডিউল তৈরি করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড কিনতে এবং রিডিম করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
বন্ড মার্কেটের উন্নয়নেও কাজ চলছে বলে জানান ডিএসইর এমডি। বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মূল্য বা চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিএসইসি চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় বন্ড মার্কেট উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেসব বন্ড বাজারে আসবে, সেগুলো যেন মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়, সে বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
ডিএসইর এমডি বলেন, আমরা মার্কেটে অনেক সাড়া পাচ্ছি। ব্যক্তিগতভাবেও চার-পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা দেখছি, কিছু বন্ড মেইন বোর্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ডে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বন্ডের লেনদেন বাড়াতে পারেন, সে বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
ডিএসইর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় ধরনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন এমডি। নাসডাকের নতুন সফটওয়্যারভিত্তিক ম্যাচিং ইঞ্জিন চালুর প্রকল্প এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে এটি লাইভে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প এবং এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।