বে-মেয়াদি এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের গত তিন বছরের কার্যক্রম তদন্তের আওতায় এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘন, সম্ভাব্য বাজার কারসাজি, অস্বাভাবিক ও চক্রাকার লেনদেন এবং স্ব-লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত করা হচ্ছে।
এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড পরিচালিত ফান্ডটির কার্যক্রম তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক মো. শাকিল আহমেদ ও মো. হাসান।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের কার্যক্রম তদন্তের আওতায় থাকবে। এ সময়ে ফান্ডটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করেছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
তদন্তে সাতটি বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ফান্ডটির বিনিয়োগ মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী করা হয়েছে কি না এবং ফান্ডের পোর্টফোলিওতে অকার্যকর সম্পদ, ক্ষতিগ্রস্ত বা মান কমে যাওয়া বিনিয়োগ ও বকেয়া দাবির কোনো স্থিতি রয়েছে কি না।
এ ছাড়া ফান্ডের সব লেনদেন পর্যালোচনা করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ বাজার কারসাজি, অস্বাভাবিক লেনদেন, চক্রাকার লেনদেন বা নিজেদের মধ্যে লেনদেনে জড়িত ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। শেয়ার লেনদেনে দেওয়া দালালি কমিশনের পরিমাণ ও যৌক্তিকতাও পরীক্ষা করবে তদন্ত কমিটি।
ফান্ডের নগদ অর্থ ও ব্যাংক হিসাবও খতিয়ে দেখা হবে। ফান্ডের অর্থ থেকে সম্পদ ব্যবস্থাপক বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষকে অনিয়ম বা অবৈধভাবে অর্থ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করবে কমিটি।
তদন্তে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার পোর্টফোলিওর কার্যক্রমের সঙ্গে এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের পোর্টফোলিওর তুলনাও করা হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় কোনো অস্বাভাবিকতা বা অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
পাশাপাশি ফান্ডটির সুশাসন ও তদারকিতে বহিস্থ নিরীক্ষক, সম্পদ ব্যবস্থাপক, ট্রাস্টি ও জিম্মাদার যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, সেটিও দেখা হবে। একই সঙ্গে ফান্ড পরিচালনায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির সক্ষমতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
তদন্ত চলাকালে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অনিয়ম বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাওয়া গেলে সেটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন। এ জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ২১ ধারা, বিএসইসি আইন, ১৯৯৩-এর ১৭(ক) ধারা এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৫ বিধির ক্ষমতাবলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।