বিডিশেয়ার ডেস্ক :
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিক চাকরি অবসানের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)। চাকরিচ্যুত চার কর্মকর্তার অভিযোগ তদন্ত করে তাদের পুনর্বহালের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছে এফআইডি। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে করা আরেক কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও বিএসইসিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে গত দুই মাসে তিন দফায় ডিএসইর অন্তত ২৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি অবসান হয়েছে। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট এক দিনেই ১১ জনের চাকরি অবসান করা হয়। এর আগে ২৫ জুন চার ডিজিএমসহ আটজন এবং ২৯ জুলাই আরও নয়জনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার এফআইডির উপসচিব ফারজানা জাহানের সই করা চিঠিতে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ডিএসইর চার কর্মকর্তা গত ২৬ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে তাঁদের ‘বেআইনি ও একতরফাভাবে’ চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ করেছেন। আবেদনটি পর্যালোচনা করে তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুত চার কর্মকর্তা হলেন ডিএসইর সাবেক তিন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. শাহীন সরওয়ার হোসেন ও হোসনে আরা পারভীন এবং সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার মমতাজুল হক চৌধুরী। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ডিএসইর সাবেক ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফও একই অভিযোগে এফআইডিতে আবেদন করেন। গত ৫ জুলাই করা আবেদনে তিনি বলেন, কোনো পূর্বনোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শুধু ‘পদের আর প্রয়োজনীয়তা নেই’ কারণ দেখিয়ে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার আবেদনের পর গত ২৩ জুলাই এফআইডি থেকে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সর্বশেষ ১১ জনের চাকরি অবসানের কারণ ডিএসই আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। চাকরি হারানো কয়েকজনের ভাষ্য, তাঁদের আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে আগের ১৭ জনের চাকরি অবসানের বিষয়ে ডিএসই জানিয়েছিল, সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম আইন ও প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুল অনুসরণ করেই তাঁদের চাকরি অবসান করা হয়েছে। ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্যের ভিত্তিতে নয়, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছিল ডিএসই।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অবশ্য ডিএসইর এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে পুনর্বহাল ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগের পাশাপাশি ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তথ্যও খতিয়ে দেখছে বিএসইসি। ফলে ধারাবাহিক গণছাঁটাইয়ের বিষয়টি এখন ডিএসইর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নজরদারিতে এসেছে।
তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের অভিযোগ এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।