জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবিকৃত ভ্যাট পরিশোধের পরও মূল ভ্যাটের চেয়ে বেশি সুদ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। ২ কোটি ৬৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৯ টাকা ভ্যাট পরিশোধের পর ব্যাংকটির কাছে আরও ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা সুদ দাবি করা হয়েছে। এই সুদের দাবি পুনর্বিবেচনার জন্য এনবিআরের কাছে চিঠি দিয়েছে ব্যাংকটি।
সম্প্রতি এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) বরাবর পাঠানো চিঠিতে এ আপত্তি জানানো হয়। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অনাবাসী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রেমিট্যান্স থেকে সংগৃহীত ভ্যাটের বিষয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) নিরীক্ষায় ২ কোটি ৬৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৯ টাকা রাজস্ব দাবি করা হয়। পূবালী ব্যাংক ওই অর্থ ই-চালানের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।
তবে ভ্যাটের মূল অর্থ পরিশোধের পরও ৯৬ মাস বা আট বছরের হিসাব ধরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা সুদ দাবি করা হয়েছে। ব্যাংকটির দাবি, এই সুদের পরিমাণ মূল ভ্যাটের চেয়েও বেশি।
পূবালী ব্যাংক বলেছে, মূসক কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক বিলম্ব ও অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘ সময় পেরিয়েছে। এই বিলম্বের দায় ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে বিপুল অঙ্কের সুদ দাবি করা যৌক্তিক নয়।
চিঠিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ১৭৭ক এবং অর্থ আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের কথা উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি। ব্যাংকের বক্তব্য, আইনি বিধান অনুযায়ী বকেয়া রাজস্বের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪ মাসের সরল সুদ আরোপের সুযোগ রয়েছে।
এ কারণে দীর্ঘ সময়ের সুদের দাবি পুনর্বিবেচনা করে আইনানুগ ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এনবিআরের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পূবালী ব্যাংক।