আইপিও অর্থ অপব্যবহারে ৫ পরিচালককে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১৪ পড়া হয়েছে

আইপিওর অর্থ অপব্যবহারের দায়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের পাঁচ পরিচালককে মোট ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানে আইপিওর অর্থ বিনিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

জরিমানার আওতায় আসা পাঁচ পরিচালক হলেন—ইয়াকুব আলী, ইয়াসিন আলী, তানভীর হাবিব, মাশরুফ হাবিব ও সালমান হাবিব। তাদের প্রত্যেককে ২০ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, কমিশনের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী রিজেন্ট টেক্সটাইলকে আইপিওর অপব্যবহৃত ৯০ কোটি টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে ফেরত জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কোম্পানিটি ওই অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

আইপিওর অর্থে অন্য কোম্পানির ৯৯% মালিকানা।

বিএসইসির তদন্তে আইপিওর অর্থ ব্যবহারে গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত অনুযায়ী, সুদসহ ৮০ কোটি ১১ লাখ টাকা রিজেন্ট টেক্সটাইলের অব্যবহৃত আইপিও অর্থ থেকে সরিয়ে লিগ্যাসি ফ্যাশন লিমিটেডে বিনিয়োগ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ৯৯ শতাংশ মালিকানা নেওয়া হয়েছে।

লিগ্যাসি ফ্যাশন রিজেন্ট টেক্সটাইলের মালিক পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান। বিএসইসির মতে, আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোম্পানির সাবসিডিয়ারি, সহযোগী বা সিস্টার কনসার্নে বিনিয়োগের সুযোগ নেই। ফলে এ বিনিয়োগকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে বিবেচনা করেছে কমিশন।

আর্থিক প্রতিবেদনেও অনিয়ম

আইপিওর অর্থ স্থানান্তরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের তথ্য আর্থিক প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ না করার অভিযোগও পেয়েছে বিএসইসি।

তদন্তে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) ১ এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএএস ২৪ অনুসরণ না করার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে প্রকৃত ও ন্যায্য আর্থিক চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থতার বিষয়টিও চিহ্নিত করেছে কমিশন।

১২৫ কোটি টাকা তুলেছিল রিজেন্ট

২০১৫ সালে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল রিজেন্ট টেক্সটাইল। ওই অর্থ দিয়ে বিএমআরই প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নতুন একটি তৈরি পোশাক ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল কোম্পানিটির।

তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়। ফলে আইপিওর অর্থের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই অর্থের একটি অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়, যা আইপিও অনুমোদনের সময় দেওয়া শর্তেরও লঙ্ঘন বলে মনে করেছে বিএসইসি।

কার্যদিবসে জরিমানা পরিশোধ

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, পাঁচ পরিচালককে আদেশ জারির ২০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে জরিমানা না দিলে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আরোপ হবে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত এ অতিরিক্ত অর্থ আদায় অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগ থেকে আরও
© All rights reserved © 2026 BD Share24.com