শিরোনাম :
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালের ৭৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার বিনিয়োগকারীকে ফান্ড থেকে টাকা ফেরত দিবে ডিএসই এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের তিন বছরের কার্যক্রমে বিএসইসির তদন্ত বিএসআরএমের দুই কোম্পানিতে দুই ধরনের আর্থিক চাপ। ১০ ব্লু-চিপ কোম্পানি তালিকাভুক্তি করাবে ডিএসই স্ক্রিপ নিটিং ও টি+১ চালুসহ ডিএসই নানা উদ্যোগ এজিএম করার অনুমোদন পেল বেস্ট হোল্ডিংস: ফিরছে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিং: নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে বিএসইসির নির্দেশনা শীর্ষ ব্রোকারেজগুলোর সঙ্গে ডিএসই’র বৈঠকে যা হলো লাভেলোর শেয়ার কারসাজিতে,ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমান

রাজ্য ফেলে চললেন রাজা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬৪ পড়া হয়েছে

বিডিশেয়ার ডেস্ক : আপনাদের কল্পনাতীত কিছু সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিতে পারার গর্ব ও মানসিক শান্তি নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি’-আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের খোলা চিঠিতে এভাবেই লিখেছেন লিওনেল মেসি। শৈশবে দেখা স্বপ্নগুলো নিজেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার সেই গভীর আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে মেসির লেখায়।

অবসরের পর কোটি আর্জেন্টাইন বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা আলোচনায় মেতেছেন—মেসি কি ঠিক করলেন নাকি ভুল করলেন? সেরা ছন্দে থেকেও রাজ্য ছেড়ে কেন চলে গেলেন রাজা? বিশ্বকাপে যিনি ৮ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট করেন, তিনি কি চাইলে আর একটা বিশ্বকাপ কিংবা অন্তত একটা কোপা আমেরিকা খেলতে পারতেন না? এই কদিন আগেই যিনি মায়ামির হয়ে ৪ গোল করেন, তার কাছে ৩৯ বছর বয়সটা সংখ্যা ছাড়া তো আর কিছু না। এজন্যই দি মারিয়া বলেছিলেন,‘যতদিন খুশি খেলে যাক মেসি।’

মেসি আসলে অনেক আগে ভালো-মন্দের ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন। তার খেলা দেখা এখনও চোখের শান্তি। ৯০টা মিনিট মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকা। অথচ সেরা ছন্দে থেকেই অবসর নিলেন এই কিংবদন্তি। বিদায়েও থাকলেন আলাদা হয়ে, শ্রেষ্ঠ হয়ে।

একটি অতুলনীয় ক্যারিয়ারের সঙ্গে যেকোনো পরিসংখ্যানেই অবিশ্বাস্য সব সংখ্যা যোগ করে মেসি এমন এক গল্প তৈরি করেছেন, যা পেলে ও ম্যারাডোনার কীর্তিকে স্পর্শ করে। এমনকি হয়তো ছাড়িয়েও যায়। পাশাপাশি আলফ্রেদ্রো দি স্তেফানো, ইয়োহান ক্রুইফ এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারদের চেয়েও এটি কোনো অংশে কম নয়মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন, নাকি ফ্লোরিডার সেই শহর, রোসারিও ও বার্সেলোনার মধ্যে নিজের সময় ভাগ করে নেবেন, অথবা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অন্য কোনো অভিযানে নামবেন—এখন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি যা কিছু অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছিলেন, তার সবই পেয়েছেন। তিনি যা কিছু স্বপ্ন দেখেছিলেন, পেয়েছেন তার চেয়েও বেশি। তার অপরিসীম প্রচেষ্টা, প্রতিভা, নিষ্ঠা, প্রচারবিমুখতা এবং বিনয়ী আচরণের জন্য পুরো আর্জেন্টিনা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য গল্পটা আলাদা। ২০২৬ সালের শেষে কি তিনি চুক্তি নবায়ন করবেন? মেসির বিদায় কি তার দায়িত্বে থাকার আগ্রহ কমিয়ে দেবে? কিংবা মূল তারকা চলে যাওয়ার পর কোচিং স্টাফদেরও কি অব্যাহতি দেওয়া হবে? এগুলো এখনো উত্তরহীন প্রশ্ন, তবে ইতিহাস কিছুটা শঙ্কাও দেখায়। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলেন পেলে। এরপর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে এবং তা জিততে ব্রাজিলের সময় লেগেছিল দীর্ঘ ২৪ বছর।

কাকতালীয়ভাবে, সেই ১৯৯৪ বিশ্বকাপেই ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ডোপের জন্য জাতীয় দল ছাড়তে হয়েছিল। তিনি সেই ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ ট্রফি খরা যুগেরই অংশ ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে গিয়ে শেষ হয়। এখন মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষাটা এত দীর্ঘ হবে না তো?

সেসব ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। মেসি কিংবা ওতামেন্দিকে ছাড়া, গত বিশ্বকাপ খেলা অনেক খেলোয়াড়ই আছেন, যাদের বয়স ও ইচ্ছা দুটোই আছে জাতীয় দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। আর্জেন্টিনার পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরার চেষ্টাই করে যাবেন তারা। সেই চেষ্টাায় মাঠের বাইরে থেকে হয়ত অনুপ্রেরণা জোগাবেন মেসি।

আর্জেন্টাইনদের কাছে মেসি আর ফকল্যান্ডস হলো জাতীয় ঐক্যের অন্যতম মাধ্যম। মেসি ১০ নম্বর জার্সিটি ছেড়ে যাচ্ছেন, তবে আর্জেন্টাইনরা সবাই তাকে ভালোবেসে যাবে আগের মতোই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগ থেকে আরও
© All rights reserved © 2026 BD Share24.com