পুঁজিবাজারে কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারের ওপর তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
তিনি জানালেন, বিগত সময়ে নিয়ম ভেঙে অর্থ ও শেয়ার সরিয়ে ফেলা পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হচ্ছে।
সোমবার দুপুর ৩টায় রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত ‘Inauguration Ceremony for Distribution of IPF Funds’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিএসই চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এ ছাড়া ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ারসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে ডিএসই চেয়ারম্যান বললেন, ‘আমাদের বাজারে বিনিয়োগ করে সব বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা থাকে, তারা যেন একটি সুন্দর বিনিয়োগ পরিবেশের মাধ্যমে ভালো রিটার্ন পান। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে লাভ-ক্ষতি দুটোই হতে পারে এবং দাম কমা-বাড়া বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কিন্তু কোনো মধ্যস্থতাকারীর অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আস্থা ভীষণভাবে নষ্ট হয়।’
এ ছাড়া ফান্ডের সব লেনদেন পর্যালোচনা করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ বাজার কারসাজি, অস্বাভাবিক লেনদেন, চক্রাকার লেনদেন বা নিজেদের মধ্যে লেনদেনে জড়িত ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। শেয়ার লেনদেনে দেওয়া দালালি কমিশনের পরিমাণ ও যৌক্তিকতাও পরীক্ষা করবে তদন্ত কমিটি।
ফান্ডের নগদ অর্থ ও ব্যাংক হিসাবও খতিয়ে দেখা হবে। ফান্ডের অর্থ থেকে সম্পদ ব্যবস্থাপক বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষকে অনিয়ম বা অবৈধভাবে অর্থ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করবে কমিটি।
তদন্তে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার পোর্টফোলিওর কার্যক্রমের সঙ্গে এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের পোর্টফোলিওর তুলনাও করা হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় কোনো অস্বাভাবিকতা বা অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
পাশাপাশি ফান্ডটির সুশাসন ও তদারকিতে বহিস্থ নিরীক্ষক, সম্পদ ব্যবস্থাপক, ট্রাস্টি ও জিম্মাদার যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, সেটিও দেখা হবে। একই সঙ্গে ফান্ড পরিচালনায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির সক্ষমতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
তদন্ত চলাকালে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অনিয়ম বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাওয়া গেলে সেটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন। এ জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ২১ ধারা, বিএসইসি আইন, ১৯৯৩-এর ১৭(ক) ধারা এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৫ বিধির ক্ষমতাবলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।